ছাত্রসংসদ ও সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের ‘ব্রেক দ্য সাইলেন্স’ কর্মসূচি

Sanchoy Biswas
আরাফাত চৌধুরী, জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নীতিমালা চূড়ান্তকরণ ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং আবাসন খাতে সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে ‘ব্রেক দ্য সাইলেন্স’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের কক্ষের সামনে দুই দফা দাবিতে ‘ব্রেক দ্য সাইলেন্স’ শুরু করেন তারা। এর আগে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তৃতীয় দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

আরও পড়ুন: ডাকসু: জমজমাট প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘আটটা টু আটটা, বাজায় কার ঘণ্টা’, ‘জকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘বৃত্তি আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘ভিসি স্যার জানেন না নাকি, আমরা এখানে বসে গেছি’, ‘ভিসি স্যার শুনছেন নাকি, আমরা এখানে বসে গেছি‘, ‘হচ্ছে হবে বাদ দাও, কবে হবে বলে দাও’, ‘করছি করছি বাদ দাও, কবে হবে বলে দাও’, স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের দুটি দাবি হলো— আবাসন খাতে শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে তা নিশ্চিত করা এবং জকসুর নীতিমালা অনুমোদন, তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

এ সময় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, 'আমরা অনেক সময় দিয়েছি। গত মে মাস থেকে এক-দুই মাসে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়ে যায়। কিন্তু প্রশাসনের অদক্ষতার কারণে তা হয়নি, আমরা নামতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের দাবি ছিল বিশেষ সিন্ডিকেট ডেকে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো। কিন্তু এই প্রশাসন তা করেনি।'

তিনি আরও বলেন, 'এতদিন আমরা বাইরে ছিলাম। প্রশাসন এসির বাতাসে ছিল। কিন্তু এখন আমরা ভিসি ভবনে থাকবো, প্রশাসন মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ঘুরবে। আমরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে উঠবো না।'

শাখা শিবির সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, 'আমরা ২ দফা দাবি নিয়ে এখানে বসেছি। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে চলমান যৌক্তিক দাবিগুলো কোনো এক অজানা কারণেই আটকে আছে। আমরা প্রশাসনের এই নীরবতা ভাঙতে চাই। তারা কোথায় আটকে আছে এটা তাদেরকেই বলতে হবে। কেন এই দীর্ঘসূত্রিতা জানাতে হবে শিক্ষার্থীদের। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলছে, চলবেই।'

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেসব দাবির বিষয়ে আন্দোলন করছেন, সেসব দাবি পূরণে 'মার্চ টু যমুনা কর্মসূচি' থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। জকসুর নীতিমালার জন্য আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত হতে পারে। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত করে ইউজিসিতে পাঠানো হবে। আইন পাস হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট থেকে জকসুর নীতিমালা অনুমোদন ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং সম্পূরক বৃত্তি প্রদানের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২১ আগস্টও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।