ফেব্রুয়ারিতে দেশে ১০ বার ভূমিকম্পে চারদিকে আতঙ্ক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৯ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঘন ঘন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশ। চলতি মাসের প্রথম ২৭ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। অধিকাংশ কম্পনের মাত্রা মৃদু থেকে মাঝারি হলেও জনমনে আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)-এর তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির ২৭ দিনের মধ্যে দেশে মোট ১০ বার কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দর ইউনিট কল্যাণ কমিটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৩।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এর মাত্রা ছিল ৪.৬ এবং উৎপত্তিস্থল ভারতের সিকিম অঞ্চল, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৪৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে মিয়ানমার উৎপত্তিস্থল থেকে সৃষ্ট ভূমিকম্প ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হয়।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনও ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় মৃদু কম্পন রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহর থেকে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।

৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পরপর দুটি কম্পন হয়, যার মাত্রা যথাক্রমে ৫.৯ ও ৫.২ এবং উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার। একই দিন ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাকেন্দ্রিক ৪.১ মাত্রার কম্পন হয়। এছাড়া ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুটি কম্পন অনুভূত হয় (মধ্যম মাত্রা ৩.৩ ও ৪)। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাকেন্দ্রিক ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পও রেকর্ড করা হয়।

ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশে ঘন ঘন কম্পন বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভূতত্ত্ববিদরা জানাচ্ছেন, ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প-বিধিমালা মেনে চলা এবং প্রস্তুতি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। মৃদু কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কিনা তা নিশ্চিত না হলেও, সতর্কতা অবলম্বন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি এখনই প্রয়োজন।