ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী ১৫তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

Sadek Ali
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ন, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৬ অপরাহ্ন, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল মিলনায়তনে দিনব্যাপী ১৫তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির আয়োজনে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সচিব অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নূর ই তাজ জাহান তন্বী।

আরও পড়ুন: ঢাবির হল থেকে ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, সমাজের সর্বস্তরে বিজ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে দিতে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিজ্ঞানচর্চাকে কেবল গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এটিকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। সামাজিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্র্যাকটিসিং জগতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করেই শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের রাজনীতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে। একাডেমিক ও প্র্যাকটিসিং জগতের মধ্যে কার্যকর মেলবন্ধন তৈরি করা গেলে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন: গবেষণার সারসংক্ষেপ উপস্থাপনে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে এবং বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি প্রতিবছর জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। এ বছর দেশের আটটি বিভাগ থেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৫৪৮ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

নবম–দশম এবং একাদশ–দ্বাদশ—এই দুই গ্রুপে শিক্ষার্থীরা অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়। দুই পর্বে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ ১০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি, মেডেল, সনদপত্র ও বিজ্ঞানবিষয়ক বই প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৬ হাজার টাকা, তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৫ হাজার টাকা এবং বাকি সাতজনকে ৪ হাজার টাকা করে পুরস্কার অর্থ প্রদান করা হয়।