ডাকসুর আয়োজিত কনসার্টে সিগারেট বিতরণ, তীব্র সমালোচনা

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৮ অপরাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ শীর্ষক কনসার্টকে ঘিরে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আয়োজকরা। ডাকসু ও ‘স্পিরিট অব জুলাই’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কনসার্টে তামাকজাত পণ্য বিতরণ ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কনসার্ট চলাকালে মাঠে স্টল বসিয়ে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এটিকে শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করছেন।

আরও পড়ুন: শাহবাগ থানার সামনে পুলিশের মারধরের অভিযোগ, আহত ঢাবি শিক্ষার্থী

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী, কোনো ধরনের বিনা মূল্যে তামাকজাত পণ্য বিতরণ, বিজ্ঞাপন বা ধূমপানে উৎসাহ প্রদান নিষিদ্ধ। এ আইনের ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ নিজের ফেসবুক পোস্টে ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, কনসার্টের সময় তিনি অতিথি আপ্যায়ন ও স্টেজ ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত ছিলেন। মাঠে সিগারেট বিতরণের বিষয়টি তার নজরে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি স্পনসর সংক্রান্ত কোনো চুক্তি বা শর্ত নির্ধারণে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না বলেও স্পষ্ট করেন।

আরও পড়ুন: ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড পেলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হোসেন

কনসার্টে দেওয়া কিছু স্লোগান নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ যখন মঞ্চ থেকে ‘কোটা না মেধা’, ‘গোলামি না সংস্কার’ ও ‘আপস না সংগ্রাম’ স্লোগান দেন, তখন মাঠে উপস্থিত একাংশ শিক্ষার্থী পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন। তারা ‘কোটা, কোটা’, ‘গোলামি, গোলামি’, ‘আপস, আপস’ বলে স্লোগান দেন। এমনকি ‘তুমি কে, আমি কে’ স্লোগানের জবাবে তীর্যকভাবে ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ স্লোগানও শোনা যায়।

ঘটনা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান বলেন, “ হলে যেখানে আইন করে সিগারেট নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, সেখানে ডাকসুর উদ্যোগকে সিগারেট বিতরণ আমাদের জন্য লজ্জাজনক।"

এদিকে শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের কার্যক্রম যাতে না ঘটে সে বিষয়ে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক।