এনআইডিতে ‘অ্যাডভোকেট’ যুক্তির আবেদন নাকচ: আটকে গেল হুইপ দুলুর নাম সংশোধন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৮ অপরাহ্ন, ২২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নামের পূর্বে ‘অ্যাডভোকেট’ পদবি সংযোজনের আবেদন আইনগত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা নাকচ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অর্জিত কোনো পেশাগত বা সম্মানসূচক উপাধি নামের অংশ হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর করা নাম সংশোধনসংক্রান্ত আবেদনকে কেন্দ্র করে এনআইডি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান আইনগত সীমাবদ্ধতা আবারও সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বুধবার (৬ মে) জানিয়েছেন, নামের পূর্বে ‘অ্যাডভোকেট’ সংযোজনের আবেদনটি প্রাথমিকভাবে বাতিল করা হয়েছে, কারণ তা প্রচলিত বিধিমালার পরিপন্থী।

আরও পড়ুন: স্থানীয় ভোটে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনগত যোগ্যতাই মুখ্য: ইসি সচিব

ইসি সূত্রে জানা যায়, আবেদনকারী তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের শুরুতে পেশাগত উপাধি যুক্ত করতে চেয়ে আবেদন করেন। তবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন দেখতে পায়, ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘ড.’, ‘প্রফেসর’, ‘হাজি’, ‘আলহাজ’, ‘অ্যাডভোকেট’সহ এ ধরনের অর্জিত বা ব্যবহারিক উপাধি সংযোজনের কোনো বিধান নেই। ফলে আবেদনটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, ব্যতিক্রম হিসেবে আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে ‘বিচারপতি’ উপাধি নামের পূর্বে যুক্ত করার নজির রয়েছে। পাশাপাশি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয়টি এনআইডির নির্দিষ্ট তথ্যাংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা নামের অংশ নয় বরং আলাদা পরিচিতি হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন: নির্বাচনী দায়িত্বে প্রাণহানি হলে ১০ লাখ টাকা অনুদান, ইসির নতুন সুরক্ষা নীতিমালা

প্রাথমিক আবেদন নাকচ হওয়ার পর হুইপ দুলু পুনর্বিবেচনার জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্র একটি রাষ্ট্রীয় ও আইনগত দলিল হওয়ায় এতে নামের গঠন ও উপস্থাপনায় কঠোর বিধিনিষেধ অনুসরণ করা হয়। ব্যক্তিগত অর্জন বা পেশাগত পরিচিতি প্রতিফলনের জন্য পৃথক স্বীকৃতি থাকলেও তা নামের অংশ হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ সীমিত।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এনআইডিতে নাম সংশোধনসংক্রান্ত বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে তথ্যের স্বচ্ছতা ও অভিন্নতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবায় সঠিকতা বজায় রাখতে সহায়ক।