ঝড়-বৃষ্টিতে গাজায় মানবিক বিপর্যয়, ৮ মাসের শিশুর মৃত্যু

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪০ পূর্বাহ্ন, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৩:৪০ অপরাহ্ন, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েলি অবরোধের মধ্যে তীব্র শীত ও ঝড়বৃষ্টির আঘাতে গাজায় আবারও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। খান ইউনিসের একটি প্লাবিত তাঁবুতে ঠান্ডায় মৃত্যু হয়েছে মাত্র আট মাস বয়সী শিশু রাহাফ আবু জাজারের।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাতভর বৃষ্টিতে পরিবারটির তাঁবুতে পানি ঢুকে পড়ে। শিশুটির মা হেজার আবু জাজার জানান, ঘুম থেকে উঠে দেখেন প্রবল বৃষ্টি ও বাতাসে শিশুটি ঠান্ডায় মারা গেছে। রাতে ওকে খাইয়ে ঘুম পাড়াই। সকালে দেখি বৃষ্টি আর ঠান্ডায় মেয়েটা আর নেই,।

আরও পড়ুন: ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, ঝড়ের কারণে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ২,৫০০টির বেশি জরুরি ফোনকল পেয়েছে তারা। গাজা সিটিতে ঝড়ের আঘাতে তিনটি ভবন ধসে পড়েছে।

শত-শত পরিবার ভঙ্গুর টেন্টে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সীমান্তে সহায়তা আটকে থাকায় পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, তাঁবু কিংবা নিরাপদ আশ্রয় কিছুই পাচ্ছে না তারা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইসরায়েলি অবরোধে আটকে সহায়তার হাজারো ট্রাক

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) জানায়, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে মাত্র ১৫,৬০০ টেন্ট গাজায় ঢুকতে পেরেছে—যা মাত্র ৮৮ হাজার মানুষকে সহায়তা করতে সক্ষম। অথচ ১২ লাখ ৯০ হাজার উদ্বাস্তু মানুষের জরুরি আশ্রয়ের প্রয়োজন।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বেতসেলেম বলছে, ৬,৫০০–এর বেশি ট্রাক এখনো সীমান্তে আটকে রয়েছে—যেগুলোতে রয়েছে তাঁবু, কম্বল, শীতবস্ত্র ও জরুরি সামগ্রী।

শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

ইউনিসেফ ফিলিস্তিনের যোগাযোগ প্রধান জোনাথন ক্রিক্স সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি “ভয়াবহ মাত্রার” এবং শিশুরা খালি পায়ে কাদায় হাঁটায় দ্রুত পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এসব বৃষ্টির পানি ডায়রিয়া ও অন্যান্য জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াবে, বলেন তিনি।

তীব্র ঝড়ে গাজা সিটির পরিবারগুলো উদ্বাস্তু হয়ে ঘর খুঁজছে

আল জাজিরার হানি মাহমুদ জানান, ঝড় তীব্র হওয়ায় গাজা সিটির সি-পোর্ট এলাকা থেকে বহু পরিবার গভীর শহরের ভেতরে তুলনামূলক অক্ষত ভবনগুলোতে আশ্রয় নিতে ছুটছে।

দুই বছরের যুদ্ধ–কষ্টের সঙ্গে এখন আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের নতুন লড়াই শুরু হয়েছে, বলেন তিনি।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক সতর্ক করে বলেন, আরও শিশু হাইপোথার্মিয়ায় মৃত্যু হতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে গরম কাপড়, তাঁবু ও শেল্টার গাজায় প্রবেশ করতে দিতে হবে।

জাতিসংঘের মানবিক দপ্তর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝড়বৃষ্টি ও প্লাবনজনিত ১৬০টির বেশি জরুরি সতর্কতা পেয়েছে।


সূত্র: আল-জাজিরা