মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈধ’ বলছে চীন, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৫৩ অপরাহ্ন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৭ অপরাহ্ন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছে বেইজিং। সোমবার (২৭ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে চীন।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, যা বেইজিং সবসময়ই বিরোধিতা করে এসেছে। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বের দুই পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়ায় আরাগচি

গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান-সংশ্লিষ্ট নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এতে চীনের একটি বড় স্বাধীন তেল শোধনাগার, যাকে ‘টি-পট’ রিফাইনারি বলা হয়,সহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে শানডং প্রদেশের শোধনাগারগুলো এবং হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারির বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আ.লীগের ৩ শীর্ষ নেতার জামিন আবেদন নাকচ

চীন এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। লিন জিয়ান বলেন, চীনা কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা আইনি বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খলেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আগামী ১৪ মে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকে এ বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।