ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর হামলায় বহু হুথি যোদ্ধা নিহত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৩ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের মারিব প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হামলার ভিডিও প্রকাশ করে সরকারি বাহিনী। তাদের দাবি, এসব অভিযানে বেশ কয়েকটি সামরিক যান ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি বহু হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

সরকারি বাহিনীর প্রকাশিত একটি পোস্টে বলা হয়েছে, মারিবে হুথিদের নয়টি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে গাড়িগুলোতে থাকা সব হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বড় নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ

অন্য একটি পোস্টে সরকারি বাহিনী জানায়, মারিবের উত্তরাঞ্চলে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সৌদির সহায়তার অনুরোধে সাড়া দেননি ট্রাম্প

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদির ২৬ দফা বিমান হামলা, দাবি হুথিদের

ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুই দফা ফোনে কথা বলে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেন।

তবে ট্রাম্প সেই আহ্বানে সামরিকভাবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ইরান যুদ্ধ, সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে একাধিক বিষয় কাজ করছে বলে বিশ্লেষণ করেছেন যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিমন মাবোন।

ইরান যুদ্ধের চাপের মধ্যে নতুন ফ্রন্ট নয়

আল-জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক মাবোন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে। ইরানকে হুথিদের প্রধান সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার সময় ধারণা করেছিল, যুদ্ধটি কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং এর প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা হবে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন এখনো স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ অবস্থায় ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক ফ্রন্ট চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনের আগে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষণ করেছেন অধ্যাপক মাবোন।

ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী ও ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে বের করে আনার কথা বলেছিলেন। ফলে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে সেই অবস্থানের সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

গত মাসে রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেন ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। আগের মাসে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ। একই জরিপে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

অধ্যাপক মাবোন বলেন, নভেম্বরের নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে আরেকটি ফ্রন্ট খুললে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।

মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার নিয়েও প্রশ্ন

ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও ছিল।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। সংঘাতে কয়েক ডজন মার্কিন বিমান এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের অনুরোধে ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ না করে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পথেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।