রাজধানীতে নাশকতা রুখতে পুলিশের দুই শতাধিক চেকপোস্ট

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৩ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ঢাকা মহানগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময়ে তাদের বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। 

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের পর কাফরুলে বাসে আগুন

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২৫০টি পয়েন্টে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব স্থানে সন্দেহজনক যানবাহন থামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রী ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

যেসব বিভাগে যত গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ, অটোরিকশাচালক আহত

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে রমনা বিভাগে ৩০ জন, লালবাগে ৩৪ জন, ওয়ারীতে ৬৪ জন, মতিঝিলে ৭৬ জন, তেজগাঁওয়ে ৯২ জন, মিরপুরে ১২০ জন, গুলশানে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৬ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

অভিযান চলাকালে পুলিশ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক-সংশ্লিষ্ট আলামত ও মাদক উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, তিনটি চাপাতি ও পাঁচটি চাকু।

এ ছাড়া বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৫৩টি লোহার পেরেক, ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা এবং ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে একটি গাড়ি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ২০০ টাকাও জব্দ করা হয়।

ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের তদন্ত

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।