মক্কার পর এবার মদিনার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হুথিদের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ন, ০২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:১১ অপরাহ্ন, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি জোটের দাবি, মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকেই মসজিদে নববী ও এর আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে। তবে এতে মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে জোটটি।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

হামলার পর তদন্ত চালিয়ে এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুথিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের ভাষ্য, হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন—দুই ক্ষেত্রেই হুথিরা জড়িত ছিল।

তবে হুথি পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে সংগঠনটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র এ অভিযোগ নাকচ করেছে। তাদের দাবি, সৌদি জোটের বক্তব্য ‘মিথ্যা’। এর মাধ্যমে সৌদি আরব মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতে চাইছে বলেও দাবি করেছে হুথি সূত্রটি।

আরও পড়ুন: ইরান ঘিরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও অভিযোগ করেছে, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মুসলমানদের দুই পবিত্র স্থান—মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুথিদের ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ। তাদের মতে, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

পবিত্র স্থান এবং হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি জোট।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের তাইজ গভর্নরেটে হুথিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। তাদের ভাষ্য, ওই সংঘর্ষে হুথি যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশে হুথিদের ছোড়া চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি খামিস মুশাইত ও দক্ষিণাঞ্চলের জাজান শহরের আকাশে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে জোটটি।