পুলিশের অভিযানে আটক পাঁচ হাজারের বেশি

ককরোচ বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

Shahrier Islam Pallab
শামসুজ্জামান শামস
প্রকাশিত: ৮:২৬ পূর্বাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং তাদের সমর্থিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতজুড়ে চলছে নজিরবিহীন ধরপাকড়। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে দিল্লির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলোও। কার্যত লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচাল করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হওয়া আইনজীবীদের মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন ঘটানোর পর ভারতে গণতন্ত্রের মেরামত শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। গতকাল শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এমপিদের উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও বক্তব্য শেয়ার করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার ও এই সরকার উভয়কেই বিদায় নিতে হবে, তবেই দেশে গণতন্ত্র আবার ফিরে আসবে।’ এর আগে গত শুক্রবার সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের চেয়েও সংকটটি অনেক বড় এবং এর মূল সমাধান লুকিয়ে আছে বর্তমান সরকারের পতনের মধ্যে।

আরও পড়ুন: হামলার জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

বিরোধী দলগুলো যদি গত কয়েক দিনের মতো ঐক্যবদ্ধ চাপ ধরে রাখতে পারে, তবে এ সরকারের বিদায় নিশ্চিত। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের চেয়েও অনেক গভীর সমস্যা আছে। এর জন্য বর্তমান সরকারের পতন প্রয়োজন। ভারতের প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের নাম যাচাই প্রক্রিয়া দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি অন্যায্যভাবে লাভবান হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে। গতকাল শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি বিশাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা। কিন্তু বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে বিজেপি সরকার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই যাচাই প্রক্রিয়ার সময় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম মুছে ফেলা হয়েছে, যা জাপানের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এর মধ্যে ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অন্যত্র চলে গেছেন এবং ৩০ লাখ মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যে সাংবাদিকদেরও আটক করছে পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের একাধিক সাংবাদিককে আটক করে বাসে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার। গতকাল শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়্যার জানায়, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা দিতে দিল্লি পুলিশ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরাও রয়েছেন। সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। আটক সব সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই দাবি জানিয়েছে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমগুলোর সংগঠন ডিজিপাব। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে দিল্লি পুলিশ সাংবাদিকদের জন্য কিছু নির্দেশনা প্রকাশ করেছিল। এসব নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের নিজেদের পরিচয়পত্র দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের কথা বলা হয়। কিন্তু গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের আটকের ঘটনা ঘটেছে। দ্য ওয়্যারের সাংবাদিক জাহ্নবী সেন, শ্রাবস্তী দাশগুপ্ত ও অন্তরা বরুয়া জানিয়েছেন, পুলিশ লোকজনকে ধরে বাসে তোলার সময় তাদের পরিচয়পত্রের প্রতি তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এ ছাড়া সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে পরিচয়পত্র দেখানোর পরও সাংবাদিকদের আটক অবস্থায় বাসে দেখা যায়। দ্য কুইন্টের সাংবাদিক সার্থক জয়সওয়ালকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার প্রয়োগ করতে চাওয়া নাগরিকদের ঠেকাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। শহরজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েন, সড়কে ব্যারিকেড, ট্রেন বাতিল এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। গতকাল দিল্লিবাসী যা দেখেছেন তাতে তারা হতবাক। শুধু দিল্লিবাসী কেন? পৃথিবীর কোথাও কেউ কোনো দিন এমন বজ্র আঁটুনি দেখেছেন কি না সন্দেহ। আন্দোলনকারীদের তুলনায় পুলিশি বহর কখনো বেশি হয় না। দিল্লিতে গতকাল তা হয়েছে। ৩৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী গত শুক্রবার শেষ রাত থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে হাজার বিশেক আন্দোলনকারীকে শায়েস্তা করবে বলে। বহিঃশত্রুর মোকাবিলায়ও কখনো এমন তৎপরতা দিল্লিবাসী দেখেনি। বোঝা গেল তেলাপোকারা নরেন্দ্র মোদির সরকার ও শাসক দল বিজেপিকে কতটা তটস্থ করে রেখেছে। যদিও অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসের মতো ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের পাশাপাশি ধ্রুব রাঠির মতো ইউটিউবারও খোলাখুলি বলতে দ্বিধা করছেন না, মোদি সরকার ভয় পেয়েছে। পতনের ভয়, কর্তৃত্ব ও মান হারানোর ভয়, ক্ষমতা হারানোর ভয়। নইলে নিজের দেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণে এভাবে জীবন-মরণপণ করত না। তেলাপাকাদের জুন-জুলাইয়ের বিক্ষোভ যে অতটা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে, জেন-জির প্লাবনে রাজধানী ভেসে যেতে পারে, পোড় খাওয়া দিল্লি পুলিশের অভিজ্ঞ কর্তারা তা অনুমান করতে পারেননি। সরকারের কাছে তারা কবুল করেছিলেন, পার্লামেন্ট অভিযানে ধারণা ছিল বড়জোর হাজার দশেক পড়ুয়া ভিড় করবে। অথচ লক্ষাধিক জনতার ঢল নেমেছিল। তাদের সামলাতে লাঠি, গ্যাস, জলকামানের পাশাপাশি পেলেট গান পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়েছিল। বিস্তর কথা হয়েছিল সেটা নিয়ে। ঠেকে শিখেছে পুলিশ ও সরকার। এবারের অনুমান, বজ্র আঁটুনির ফাঁকফোকর দিয়ে ২০ হাজারের মতো জেন-জি ভিড় করতে পারে। তাদের ঠেকাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বন্দোবস্ত করেছেন ৪৩ হাজার বাহিনীর। তার মধ্যে গতকাল শনিবার মোতায়েন করা হয় ৩৫ হাজারকে। প্রত্যেকের ব্রিফ একটাই, যন্তর মন্তর ঘিরে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের ধারেকাছে কাউকে ভিড়তে দেওয়া চলবে না। ঠেকাতে হবে দৃঢ়ভাবে। বলপ্রয়োগ শেষ অস্ত্র। কিন্তু কিসের কী? প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে গতকাল শনিবার দিল্লিজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও ছাত্রনেতারাও রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং দিল্লিগামী সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে সিজেপির কর্মসূচির অনুমতি ছিল না। তারপরও জমায়েতের চেষ্টা করায় ভোর থেকেই অভিযান শুরু হয়। মুম্বাই থেকে আসা বিমানের ভেতর থেকে দীপকেসহ তিন শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়। পরে সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পাঁচ সাংসদকে আটক করা হয়। কেজরিওয়ালের বাড়ি ঘিরে রেখে তাকে বের হওয়ার সময় আটক করা হয়। বিজয়ন, ব্রিট্টাসসহ অন্যদের ছত্রসাল স্টেডিয়ামের অস্থায়ী আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশের একটি দল ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে অভিজিৎ দীপকেসহ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আটকের বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মুম্বাই থেকে আসা বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরপরই সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশকর্মী উপস্থিত হন। পুলিশ তাদের আটক করতে এগিয়ে গেলে শুরু হয় বাক্‌বিতণ্ডা। সিজেপি নেতাদের বলতে শোনা যায়, ‘আসুন, গ্রেপ্তার করুন। আমরা তার জন্যই অপেক্ষা করছি।’ এর মধ্যেই বিমানে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং আশপাশের যাত্রীরা পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন। শনিবার সকালে প্রথম আটক করা হয় সিজেপির তিন শীর্ষ নেতাকে। মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী বিমানে ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বিমানটি সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই বিমানের ভেতরে ঢুকে তাদের আটক করে দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার দল। সঙ্গে ছিলেন নারী পুলিশ সদস্যরাও। অন্য যাত্রীদের তখন দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিমানের ভেতর থেকেই ইনস্টাগ্রাম লাইভে আসেন সিজেপি নেতারা। লাইভে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা দেখা যায়। দীপকে বলেন, গ্রেপ্তার হবেন জেনেই দিল্লিতে এসেছেন, ভয় পান না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর তিনজনকে তিনটি আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দীপকেকে গুরুগ্রামে, সৌরভকে দিল্লিতে এবং রাঙ্কাকে দ্বারকায় রাখা হয়েছে। আটকের পর সিজেপি বিবৃতি দিয়ে বলে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্বকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই আটকে দেওয়া পূর্বপরিকল্পিত। এটি চলাফেরার স্বাধীনতার লঙ্ঘন। দলটি তিন নেতার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে। আটক হওয়ার সময় দীপকে বলেন, দেশে জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীও এমন করেননি। আগে থেকে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, তারা আটক হলে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্দে। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার প্রয়োগ করতে চাওয়া নাগরিকদের ঠেকাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। শহরজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েন, সড়কে ব্যারিকেড, ট্রেন বাতিল এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন শশী থারুর। তাঁর ভাষ্য, রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি তিনি আগে খুব কমই দেখেছেন। পোস্টে শশী থারুর লেখেন, রাত ২টার পর রাজধানীতে ফিরে তিনি দেখেছেন, কয়েকশ মিটার পরপর তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। সড়কে রাখা হয়েছে কংক্রিটের প্রতিবন্ধক ও স্পাইক স্ট্রিপ। পুরো শহরে ৩৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া ২৫০টি ট্রেন বাতিল এবং ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হওয়া আইনজীবীদের মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) জরুরি ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়ে কয়েকজন আইনজীবীকে আটকের বিষয়টি জানায়। চিঠিতে বলা হয়, আটক আইনজীবীদের দিল্লির যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসসিবিএর ওই চিঠি পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আইনজীবীদের মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। ভারতে এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন আইনজীবীরা। এ সময় তাঁদের কয়েকজনকে আটক করা হয়।