আদালত অবমাননা করায় ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দুই আইনজীবী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:৩০ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ বলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আওয়ামীপন্থি দুই আইনজীবী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সশরীরে হাজির হয়ে তাঁরা ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শুনানি শেষে দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আনা আদালত অবমাননার অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের ক্ষমা প্রার্থনার পর আদালত কী পদক্ষেপ নেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগের মুখে থাকা দুই আইনজীবী হলেন হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরী।

আরও পড়ুন: সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে একজন বিচারক অসুস্থ থাকায় সেদিন শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। ওই দিনও অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছিলেন দুই আইনজীবী। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামীপন্থি আরও কয়েকজন আইনজীবী গেলেও নিরাপত্তার কারণে সবাইকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ওই রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে পরদিন, ১৬ সেপ্টেম্বর, দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

আরও পড়ুন: ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে হাসানুল হক ইনুর আপিল

প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, আইনজীবী হিসেবে তাঁদের এমন মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়।

মামলাকে কেন্দ্র করে সোমবার ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল-২-এর সব মামলার শুনানি বাতিল করা হয়েছে এবং আইনজীবীদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দুই আইনজীবীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।