ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্রের জনক’ প্রস্তুত, হুঁশিয়ারি আইআরজিসি উপদেষ্টার

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:২০ পূর্বাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শত্রুপক্ষের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিনিয়োগে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নকদি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্রের জনক’ প্রস্তুত রয়েছে এবং শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তাদের হামলা ব্যর্থ হবে।

রোববার ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সারিতে ‘স্যাক্রিফাইস ফর ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন নকদি।

আরও পড়ুন: ককরোচদের ঠেকাতে আত্মপ্রকাশ করল ‘লাল হিট জনতা পার্টি’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জনককে প্রস্তুত রেখেছি। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তাদের হামলা ব্যর্থ হতে বাধ্য, আর তাদের বেরিয়ে যাওয়ার কোনো পথ থাকবে না।’

নকদির বক্তব্যে ‘ক্ষেপণাস্ত্রের জনক’ কথাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব হিসেবে এসেছে। এর আগে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রচলিত বোমা জিবিইউ-৪৩/বি ব্যবহার করার হুমকি দেন। বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার জননী’ নামে পরিচিত।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

নকদি আরও বলেন, শত্রুপক্ষ কোনো ভুল হিসাব করলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের মালিকানাধীন অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ ইরানের হামলার আওতায় চলে আসবে। এতে সেসব স্থাপনার নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।

তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও প্রতিরোধের শক্তি দেখিয়েছে। ফলে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা জবাব দিতে সক্ষম।

ইরানের শক্তি ও সাফল্যের মূল কারণ সামরিক সরঞ্জাম নয়, বরং দেশটির জনগণের ঐক্য, প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের মানসিকতা বলেও মন্তব্য করেন নকদি। তাঁর দাবি, জনগণের প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের কারণে স্থলপথে শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রে শত্রুপক্ষের জাহাজগুলোকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

ট্রাম্পের হুমকিকে পরাজয়ের স্বীকারোক্তি বললেন নকদি

বক্তব্যের অন্য অংশে নকদি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি এবং ধৈর্য শেষ হয়ে আসার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইরানের জনগণের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরাজয়ের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি’।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই বিজয়ী হয়ে থাকে, তাহলে তাদের ধৈর্য শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হুমকি দেওয়ার প্রয়োজন হতো না। এ ধরনের বক্তব্য ওয়াশিংটনের বিজয়ের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সব বোমার জননী’সহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকির প্রসঙ্গে নকদি দাবি করেন, ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ওপর ১৪ টন ওজনের বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে সেগুলোর কিছু বিস্ফোরিত হয়নি এবং পরে ইরানি বাহিনী সেগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে তিনি জানান।

নকদির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অস্ত্রের নমুনা এখন ইরানের কাছে রয়েছে। যে দেশ অস্ত্রগুলো তৈরি করেছে, ইরান তাদের পাশাপাশি এসব অস্ত্র সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করা হলে তা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সংঘাতকে আরও বড় মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।

এর আগে শনিবার আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এক বিবৃতিতে বলেন, সবচেয়ে ভারী বোমার নামের সঙ্গে ‘মাদার’ বা ‘মা’ শব্দটি ব্যবহার কেবল ‘বর্বর সভ্যতার’ পরিচয় বহন করে।

 সূত্র: প্রেস টিভি