আবু সাঈদ হত্যা

এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজনের মৃত্যুদণ্ড

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:১৪ অপরাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল

রায়ে সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের প্রতিক্রিয়া

আরও পড়ুন: রায়ের পর পুলিশের সঙ্গে আসামিদের ধাক্কাধাক্কি, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। নির্মম এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছে এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আমরা বিচার নিশ্চিত করতে পেরেছি।”

প্রসিকিউটর মঈনুল করিম জানান, মামলায় ২৫ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নিহতের বাবা মকবুল হোসেনও সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের মধ্যে আবু সাঈদের ওপর হামলা চালানো হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রথমে তাকে গুলি করেন এএসআই আমির হোসেন। এরপর কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় পরপর গুলি চালালে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি

গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৭ আগস্ট থেকে বিচার শুরু হয়।

মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক।

প্রমাণ ও শুনানি

বিচার চলাকালে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ঘটনার সময় আসামিদের অবস্থান ও ভূমিকা তুলে ধরা হয়। তিন কার্যদিবস ধরে প্রসিকিউশন মামলার বিস্তারিত উপস্থাপন করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়।