দেশে ইনসুলিন কার্ট্রিজের উৎপাদন ওষুধে স্বনির্ভরতা অর্জনে ভূমিকা রাখবে: স্বাস্থ্য মন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৬ অপরাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে প্রথমবারের মতো ডেনমার্কের প্রযুক্তিতে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও নভো নরডিস্ক বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ (পেনফিল) উৎপাদন শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের তুলনা করা অন্যায়: সংসদে ফজলুর রহমান

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) “সাবাশ বাংলাদেশ আয়োজিত ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি” শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতে একটি বড় অগ্রগতি এবং উচ্চমানের ডায়াবেটিস চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “এই উদ্যোগ আমাদের উন্নত বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিফলন। এটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে।”

আরও পড়ুন: সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ম্যানেজার কোর্সের সনদ বিতরণ

দীর্ঘদিন ধরে নভো নরডিস্ক ডেনমার্ক থেকে নভোমিক্স ও নভোর‌্যাপিডসহ আধুনিক ইনসুলিন বাংলাদেশে আমদানি করে আসছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে একই প্রযুক্তিতে এখন এসব ইনসুলিন দেশেই উৎপাদিত হবে। ফলে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রোগীরা তুলনামূলক কম খরচে ইনসুলিন পেতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রিমিক্স ও দ্রুত কার্যকর আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন করা হবে। উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচ ডেনমার্কে গুণগত মান যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, যাতে বৈশ্বিক মান বজায় থাকে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শামীম হায়দার বলেন, “ইনসুলিনের মতো জটিল বায়োলজিক ওষুধের ক্ষেত্রে গুণমান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশীদারিত্ব সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, “এই উদ্যোগ ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে মানসম্মত চিকিৎসা সহজলভ্য করবে।”

নোভো নরডিস্ক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি জানান, স্থানীয় উৎপাদনের ফলে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে। একইসঙ্গে নভোমিক্স ও নভোর‌্যাপিড ইনসুলিনের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ কমানো হচ্ছে, তবে গুণগত মানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান বলেন, “এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ডেনমার্কের প্রযুক্তি হস্তান্তরের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত এবং উচ্চমানের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।”

বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাবে। ফলে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ইনসুলিনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

উল্লেখ্য, Novo Nordisk ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করে আসছে এবং ২০১২ সাল থেকে দেশে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল উৎপাদন করছে। অন্যদিকে, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস ১৯৯০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদন করে আসছে।