মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা, সৌদি-তুরস্ক ইতিবাচক
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্ক ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে এবং এ জোটে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা আপাতত কোনো ঝুঁকি দেখছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, বাঁচার আগে মরার চিন্তা করলে সমস্যা। অর্থাৎ বাংলাদেশকে জোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ মক্কা প্যাক্টে যোগ দেবে কি না, তা নির্ভর করবে চুক্তিভুক্ত সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: স্বৈরাচারী শক্তি আবারও ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে: প্রধানমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মক্কা চুক্তি বিশ্বের মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এ চুক্তি হয়েছে এবং বাংলাদেশ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে এখনো বাংলাদেশের যোগদান বা না-যোগদানের প্রশ্ন আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির সদস্য তিন দেশ বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। চুক্তিটি বিস্তৃত হলে এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তি গত ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি সদস্য দেশগুলোর ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে রোববার ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও চীন কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে।
তবে এসব সংলাপের তারিখ ও সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।





