‎সাংবাদিক আলিফ হত্যা: তাজুলের দুই সহযোগী ইমন ও সাব্বির গ্রেফতার

Shahrier Islam Pallab
‎নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৭ অপরাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে।

‎‎শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- দুর্গাপুর পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকার ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং একই উপজেলার তেরিবাজার এলাকার মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)।

আরও পড়ুন: কুলাউড়া উপজেলা কাজী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

‎দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁরা হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামের সহযোগী বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো তাঁদের দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।‎

‎ওসি আরও জানান, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে ইমন গত বছরের ১০ নভেম্বর সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। পাশাপাশি বর্তমান হত্যা মামলার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। ইমন ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে ৫ কলেজের পাশ করেনি কেউ : জেলায় পাসের হার ৪১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮১ জন

‎এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালত তাঁদের পুলিশ রিমান্ডে পাঠান। বর্তমানে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন।

‎এদিকে সাংবাদিক আলিফ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা শহরে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা। শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নেত্রকোণা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বক্তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। পরদিন তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা ওরফে খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

‎‎নিহত আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে লেখালেখি করতেন।

‎