আনিসুল হকের ১৭২ কোটি টাকার সম্পদ, দুদকের চার্জশিট

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৩ পূর্বাহ্ন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সচিব সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।

দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, আনিসুল হকের নিজের নামে ও সংশ্লিষ্টদের নামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর নিট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। এ হিসাবে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদকে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

দুদকের ভাষ্য, তদন্তে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাঁর সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

চার্জশিটে থাকা অপর তিন ব্যক্তি হলেন—আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং ‘কাজিন’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইকবাল। দুদকের দাবি, তাঁরা আনিসুল হককে সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন।

আরও পড়ুন: স্বৈরাচারী শক্তি আবারও ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে: প্রধানমন্ত্রী

তদন্তে জেবুন্নেসা বেগমের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জেবুন্নেসা বেগমের সম্পদের মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।

দুদকের তদন্তে আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এসব হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জমা ও উত্তোলন মিলিয়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকা। এসব লেনদেনকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

দুদকের ভাষ্য, অবৈধ উৎস থেকে পাওয়া অর্থের উৎস গোপন, স্থানান্তর ও রূপান্তরের উদ্দেশ্যে এসব লেনদেন হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তে সন্দেহ করা হয়েছে।

দুদক জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল। প্রাথমিক মামলায় যে সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল, তদন্ত শেষে সেই পরিমাণ আরও বেড়েছে।

চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।