পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব হবে: ড. এম এ কাইয়ুম

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৩ অপরাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ ও রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় ও লুটপাট হয়েছে। এর ফলে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার। বৃহস্পতিবার  (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্ব রামপুরা হাইস্কুল আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. এম এ কাইয়ুম।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। এর সমাধানেও সময় প্রয়োজন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম জোরদার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাড় নয়, কঠোর অবস্থানে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গ্যাস অনুসন্ধানের বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ ছিল বলে তিনি মনে করেন। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব হবে।

দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। শিক্ষা খাতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ এবং খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি পুনরায় চালুর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ৮০০ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ২০ লাখ মেরিনারদের পারফর্ম্যান্সের ওপর : নৌপরিবহন মন্ত্রী

রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে ঢাকা-১১ আসনের মাটি ও গণমানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, সরকারের সমালোচনা অবশ্যই করা যাবে, তবে তা হতে হবে যৌক্তিক। অযৌক্তিক সমালোচনা বা সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা যাবে না। বিএনপি জুলুম-নির্যাতনের রাজনীতি করতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ড দেশের উন্নয়ন ও স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসব ঘটনায় তিনি পতিত সরকারের সহযোগীদের দায়ী করে বলেন, গুপ্ত রাজনৈতিক দল তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি স্বৈরাচারের দোসরদের আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী মাদক বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে জানাতে বলেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে পূর্ব রামপুরা হাইস্কুলের জন্য আব্দুল হাই-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাসিক ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন ড. এম এ কাইয়ুম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। তিনি ড. এম এ কাইয়ুমের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। তাঁর বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায়ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার বলেন, ড. এম এ কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও তিনি মানুষের পাশে থাকার কার্যক্রম বন্ধ করেননি।

ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ড. এম এ কাইয়ুমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা জানিয়ে শাম্মী আক্তার বলেন, পূর্ব রামপুরা হাইস্কুলের অডিটোরিয়াম ও বাউন্ডারিসহ স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১১ আসনে মাদক, চাঁদাবাজি ও মাস্তানি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। যে দলেরই কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রেখে শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে শাম্মী আক্তার বলেন, নারীদের শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের উন্নয়নে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।