জাতিসংঘে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী, স্মরণ করলেন বাবা-মাকে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৪ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই মুহূর্তে তিনি কিছুটা স্মৃতিকাতর। একই মঞ্চে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে স্মরণ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণ।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এর বিকল্প অকল্পনীয় : খলিলুর রহমান

তারেক রহমান বলেন, ‘জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।’

বিশ্বায়নের বর্তমান সময়ে বিশ্বের কোনো এক প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনাও বিভিন্ন দেশের ওপর কমবেশি প্রভাব ফেলে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছেন এবং সৃষ্টি হচ্ছে মানবিক সংকট।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

সংঘাত নিরসনে আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান এসব পথেই হওয়া উচিত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন তিনি পুনর্ব্যক্ত করছেন।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।