যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের সমঝোতা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৫ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং এ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এ সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেহান আসাদ।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’, ওয়াল স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং উভয় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তির সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয় উভয় দেশ। বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান, পারমাণবিক সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসংক্রান্ত নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।

আরও পড়ুন: দুপুর থেকে ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়

সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশেরই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকল কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তির (এনপিটি) পক্ষভুক্ত।

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে রাশিয়ার সহযোগিতায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে জ্বালানি খাতে বৃহত্তর সহযোগিতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। ওই সমঝোতার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা।

তবে নতুন সমঝোতা স্মারকটি সাধারণ জ্বালানি বাণিজ্যের পরিবর্তে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।