হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সী এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬ অনুষ্ঠিত

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১২ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ সোমবার (০৫ অক্টোবর ২০২৬) ‘এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সী এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনো উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অগ্নি নির্বাপণ, যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম বাস্তবসম্মতভাবে অনুশীলন করা। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে কর্মরত ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা ও পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বিত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও মহড়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর নির্দেশনা এবং National Civil Aviation Security Programme-এর ধারা ১৬.২.৫.২ অনুযায়ী বিমানবন্দরে নির্ধারিত সময় অন্তর এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়া আয়োজন বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম, প্রস্তুতি এবং কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।

আরও পড়ুন: বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচক ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন, জাহানারা ক্লিনিক লিমিটেড, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো মহড়া প্রত্যক্ষ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ১৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্র সুসংহত করতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: সিইসি

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ, পিএসসি, জিডি(পি)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি।


ই মহড়া আরও প্রত্যক্ষ করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি একে খন্দকার ও বাশার এর সম্মানিত ঘাঁটি এয়ার অধিনায়কগণ, বেবিচক এর সদস্যবৃন্দ, বিমান, সেনা ও নৌ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ,  বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চেয়ারম্যান এয়ারলাইন্স অপারেটিং কমিটি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আগত অতিথিবৃন্দ ও উত্তরা জাহানারা ক্লিনিক লিমিটেড হতে আগত অতিথিবৃন্দ ।


মহড়ায় উপস্থাপিত কল্পিত দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে আসা ৯৮ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রুবাহী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুনের বিষয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারকে অবহিত করে। সঙ্গে সঙ্গে এটিসি জরুরি অবস্থা (Emergency) ঘোষণা করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট সব জরুরি সেবা সংস্থাকে অবহিত করে। বিমানবন্দরের Airport Emergency Plan কার্যকর হওয়ার পর সব ইমার্জেন্সি রেসপন্স সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করে।


এয়ার সাইডের দৃশ্যপটে আরও দেখা যায়, জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের সেন্ট্রাল লাইন অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়ে রানওয়ের নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে উচ্চগতিতে সামনে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে এটি রানওয়ে থেকে বাম দিকে ছিটকে পড়ে এবং ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে থেমে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উড়োজাহাজের নিচের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো উড়োজাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।


এরপর বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, উদ্ধারকারী দল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে অগ্নি নির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করে। মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম, দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিমানবন্দরের জরুরি প্রস্তুতির বাস্তবসম্মত অনুশীলন সফলভাবে প্রদর্শিত হয়।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি প্রথমে এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সী এক্সারসাইজ-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল সংস্থাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা। গত বছর বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।


তিনি বলেন, দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী National Civil Aviation Security Committee গঠন করা হয়েছে। আসন্ন ICAO Audit-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় compliance নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভিআইপি ও সিআইপিসহ সকলের জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রোটোকল সমানভাবে অনুসরণ করতে হবে।


বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোনের উড্ডয়নকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি Anti-Drone System স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান। পাশাপাশি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানারের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যাচাইয়ে এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিদ্যমান প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।


অনুষ্ঠানের সভাপতি বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইসদ মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক মহড়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে জনবলের পেশাগত দক্ষতা, জরুরি সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়। তিনি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল সংস্থা এবং আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।


মহড়া শেষে এর বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। মহড়ার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং চিহ্নিত বিষয়সমূহ ভবিষ্যতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।