যে আসনে আপন দুই ভাই বিএনপি-জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন দুই আপন ভাই। বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রবিবার (৩ নভেম্বর) বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান রৌমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত
এর আগে, একই আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত হয় তাঁর ছোট ভাই এবং রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক।
এতে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনী কর্মসূত্র, সমর্থকশ্রেণী ও ভোটের সমীকরণে এসেছে পাল্টা হিসাব। দুই ভাই-ই এলাকায় বহু বছর ধরে সংগঠনের নেতৃত্বে সক্রিয় এবং প্রত্যেকের রয়েছে দৃশ্যমান জনপ্রিয়তা।
আরও পড়ুন: শাহবাগের সেই অসহায় গোলাপিকে নতুন বাড়ি দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪১২ জন। পুরুষ ১,৬৮,৭১১, নারী ১,৬৯,৬৯২ এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৯ জন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসনটি বহুদিন ধরেই বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে একই পরিবারের দুই নেতার মুখোমুখি অবস্থান আসনটিকে জাতীয়ভাবে আলোচিত আসনের পর্যায়ে তুলেছে।
এক প্রবীণ স্থানীয় রাজনীতিক বলেন, এটা আমাদের এলাকার রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই প্রার্থী—এটি নির্বাচনের ময়দানে এক নতুন গতিশীলতা তৈরি করেছে।
জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন,দুই ভাই প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনের ফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। জামায়াতের জনভিত্তি আরও শক্ত হয়েছে, আমি জয়ী হবো বলে বিশ্বাস করি।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, আমার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে জনগণ আমাকেই চাইছে। আমি প্রার্থী হওয়ায় ভাইয়ের একক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকলো না।
স্থানীয় জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—ভাই বনাম ভাই লড়াইয়ে শেষ হাসি কার?





