বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে: তারেক রহমান

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৭ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপি ক্ষমতায় এলে সারাদেশে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। প্রয়োজনের সময় চিকিৎসক পাওয়া যায় না, ওষুধের সংকট রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল সংস্কার, চিকিৎসক নিয়োগ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বিএনপির আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বরিশালে নির্বাচনী জনসভা শেষে হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুরে পৌঁছান তারেক রহমান।

আরও পড়ুন: শুক্রবার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের দায়িত্ব থাকবে গ্রামে গ্রামে ও ঘরে ঘরে গিয়ে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। যেসব রোগের চিকিৎসা ঘরে বসেই দেওয়া সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে মা-বোনদের হাসপাতালে এসে কষ্ট করতে হবে না। ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে।

ফরিদপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা করলে যদি জনগণের উপকার হয় ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তাহলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে। একই সঙ্গে ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পদ্মা নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আমেরিকায় আমাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছে

কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা সহজে বীজ, সার ও কীটনাশক সংগ্রহ করতে পারবেন। নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়নে বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার হটিয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।

একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি গুপ্ত দলের নেতা দেশের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালেও ওই দলের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা যায়, তাহলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশে জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও সুশাসনভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সঠিক নীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ—এই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।

জনসভায় ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার ১৫ জন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারম্যানকে এক নজর দেখতে ও তার বক্তব্য শুনতে দুপুর থেকেই সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। একপর্যায়ে আশপাশের এলাকাও জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য, এই প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে সরাসরি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।