মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: উদ্বেগ বাড়ছে মিডিয়া অঙ্গনে

Rashedul Hoque
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মোহনা টিভিকে কেন্দ্র করে দখলচেষ্টার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির উসকানিতে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে।  দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রকৃত মালিকদের পক্ষে পল্লবী থানায় জিডি করা হয়েছে। জিডি নং ১০১১ তারিখ ১২-০৪-২০২৬। থানা পুুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায়এবং বহিরাগতদের বের করে দেয়। বিষযটি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও তদন্ত করছে। জানা গেছে, সাবেকমন্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ মজুমদারের এক সময়ের পার্টনার ছিলেন আতাহার উদ্দিন  ও আজমত ।  পরে তারা পার্টনারশিপের টাকা তুলে নিয়ে নিয়েছেন । বর্তমানে কামাল আহমেদ মজুমদার ও তার ছেলে প্রতিষ্ঠানের এমডি শাহেদ আহমেদ মজুমদার কারাবন্দি থাকায় সুযোগবুঝে মোহনা টেলিভিশনটি দখলের পাঁয়তারা করে আতাহার উদ্দিন  চক্র। তারা প্রতিষ্ঠানের একজন সুযোগ সন্ধ্যানী কর্মকর্তা তছলিম চৌধুরিকে সাথে নিয়ে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি দখলের অপচেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট করেন। যার নম্বর ১১৮/২৬। উচ্চ আদালত ভূয়াকাগজপত্রের উপর স্ট্রে আদেশ দেন। তারপরও চক্রটি প্রতিষ্ঠানটি দখলে মরিয়া । তারা বহিরাগতদের সাথে নিয়ে গত ১২ এপ্রিল মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা করে। মোহনায় কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুলিশের সহায়তায় তাদের দখলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। তারপরও তছলিম চৌধুরি গংরা বসে নেই। মিডিয়ার লোকেরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; বরং এটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর এভাবে দখলচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলকে কেন্দ্র করে একটি অস্বচ্ছ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে ব্যবহার করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।