যে কারণে এক বছরে যতবার চলাচলে বিঘ্ন মেট্রোরেল

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪৮ অপরাহ্ন, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৯:৪১ পূর্বাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার যানজট নিরসনে স্বস্তির বাতাস এনে দেওয়া মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর গত দেড় বছরে অন্তত ১০ বার চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, এসব ঘটনার বেশির ভাগই মানবসৃষ্ট—যেমন লাইনে কাপড় বা ব্যাগ পড়ে যাওয়া, ট্রেনের ছাদে ওঠা, ড্রোন উড়ে যাওয়া, বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর বস্তু নিক্ষেপসহ নানা অসচেতনতা। পাশাপাশি যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটির কারণেও কয়েকবার চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, এসব মানবসৃষ্ট সমস্যার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়াসহ বিভিন্ন কারণে যাত্রীসংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচন ও গণভোটে যান চলাচলে বিধি-নিষেধ, প্রজ্ঞাপন জারি

গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকে। অক্টোবরের এক ঘটনায় ট্রেন থেমে যাওয়ার সময় আতঙ্কে প্ল্যাটফর্মে লাফিয়ে পড়া এক যুবকের মৃত্যু হয়।

প্রধান মানবসৃষ্ট বিঘ্নের কারণ। লাইনে কাপড়, ব্যাগ বা অন্যান্য বস্তু পড়া। ড্রোন উড়ে যাওয়া। বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর বস্তু নিক্ষেপ। ট্রেনের ছাদে ওঠা। অগোছালো বর্জ্য লাইন এলাকায় পড়ে থাকা

আরও পড়ুন: ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল চলাচল বন্ধ

এসব ঘটনায় ট্রেন চলাচল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়—যা দুর্ঘটনা এড়ানোর জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে হঠাৎ থেমে যাওয়া ট্রেন যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তি ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

যান্ত্রিক বিঘ্নের কারণ, বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়া, দরজার ত্রুটি, সিগন্যাল সমস্য

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

  • গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা মেট্রোরেলের নিরাপত্তা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। প্রস্তাবগুলো হলো—
  • লাইনে বস্তু শনাক্তের জন্য অবজেক্ট ডিটেকশন সেন্সর ও এআই-চালিত সিসিটিভি
  • ড্রোন সনাক্তের জন্য রাডার ও জিওফেন্সিং
  • বৈদ্যুতিক লাইনের পাশে সুরক্ষা নেট
  • উন্নত দরজা-সেন্সর ও সফটওয়্যার আপগ্রেড
  • ব্যস্ত স্টেশনগুলোতে রিয়েল-টাইম যাত্রী ব্যবস্থাপনা
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপক প্রচার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, এসব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, “মেট্রোরেল আমাদের সবার সম্পদ—এটির সুরক্ষা ও সচেতনতা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। এটি একদিনে সম্ভব নয়, তবে নিয়মিত প্রচারণার মাধ্যমে সংস্কৃতি তৈরি করা যেতে পারে।