কমলগঞ্জে পুনরায় সিপি চালুর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন
বহুজাতিক পোল্ট্রি ও হ্যাচারি প্রতিষ্ঠান সিপি বাংলাদেশর অব্যাহত পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা পুনরায় এ খামার চালুর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চৈত্রঘাট এলাকায় অবস্থিত সিপি পোল্ট্রি হ্যাচারির বিষাক্ত বর্জ্যে দুর্গন্ধে দূষিত হয়ে পড়ে আশপাশের ১১টি গ্রামের পরিবেশ। বর্জ্যের দূষণে শিশু ও গর্ভবতী নারীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি হওয়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, আহত বৃদ্ধা
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে গত এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। তবে সম্প্রতি একটি মহল পুনরায় এই সিপি হ্যাচারি চালুর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কে চৈত্রঘাট বাজারে সিপি হ্যাচারির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
‘সিপি হঠাও, পরিবেশ বাঁচাও’, ‘দূষণমুক্ত পরিবেশ চাই, আমরা সবাই বাঁচতে চাই’, ‘দূষণমুক্ত পরিবেশ চাই, সুস্থ নিঃশ্বাসে বাঁচতে চাই’—লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে তিন শতাধিক মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আরও পড়ুন: নান্দাইলে হতদরিদ্র গৃহহীন ৩৬ পরিবার পেল মাথা গোঁজার ঠাঁই ‘স্বপ্নবাড়ি’
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকার প্রবীণ মুরব্বি তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সজলু মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মৌলানা লুৎফুর রহমান জাকারিয়া, ইউপি সদস্য সামসুল হক, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য খুসবা বেগম, মাওলানা হাসান আহমদ, আমিনুল ইসলাম, মুকিত আহমদ, আহমদ আলী, আতাউর রহমান, হাফেজ সাকের আহমদ, আবু হানিফা, সুয়েব আহমদ, গিয়াস উদ্দিন ও ফজলু মিয়া প্রমুখ।
এছাড়া মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল আলী, খোকা মিয়া, মসুদ মিয়া, দিনু মিয়া, রইছ আহমদ, তারিক মিয়া, বাসিদ মিয়া, রুজেল মিয়া, তছকির মিয়া, আলী খান, জইন মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আঙ্গুর মিয়াসহ প্রায় তিন শতাধিক গ্রামবাসী।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “সিপি পুনরায় চালু করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। আমরা তাদের এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। পরিবেশ ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো মূল্যে আমরা প্রতিহত করব।”
বক্তারা আরও বলেন, “সিপির তীব্র দুর্গন্ধের কারণে রাস্তায় যাতায়াত ও মসজিদে নামাজ আদায়েও ব্যাঘাত ঘটত। খামারের বিরুদ্ধে নয়, বরং দূষণমুক্ত ও সুস্থ পরিবেশে বাঁচার দাবিতেই আমাদের এই কর্মসূচি।”





