৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে
২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী নেতৃত্ব বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অংশীজনদের সামনে উপস্থাপন উপলক্ষে এ সংলামের আয়োজন করে অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি (এএফইডি) ও ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি)।
আরও পড়ুন: মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “আরপিও অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব রাখার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। তা নিশ্চিত না করলে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।”
তিনি বলেন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরই নির্ভর করে। দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনে নারী প্রার্থী মনোনয়নেও তাদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: র্যাবের এডিজি ও রংপুর কমিশনারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তার রদবদল
সংলাপে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছাই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলগুলো সেই সদিচ্ছা ধরে রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকায় নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মনোনয়ন পাওয়াকেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার নিশ্চয়তা মনে করার সংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তবে জনগণের ভোটেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
তিনি বলেন, অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে দলীয় মনোনয়ন পেলেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত। এ ধরনের ধারণার কোনো সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য এবং জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
সংলাপে উপস্থাপিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এএফইডি বোর্ড সদস্য ও ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপার্সন তালেয়া রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএফইডির সদস্য-সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। এএফইডির কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।
সংলাপে সংসদ সদস্য, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি, দাতা সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।





