নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাজে বাঁধা দেওয়ায় লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: শ্যামনগরে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাইদুর রহমান ভুইয়া জনপ্রতিনিধি হিসেবে সহযোগিতা করার পরিবর্তে ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং আদালত চলাকালীন সময়ে আদালত অবমাননা করেছেন। বিষয়টি ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব কারণে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
এর আগে লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভুইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। উপজেলার লেঙ্গুরা বাজারে সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ করা অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই মো. পারভেজ নামের এক ব্যক্তিকে আটককালে ইউএনওর সঙ্গে চেয়ারম্যান এই বিতর্কে জড়িয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার
ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউএনওকে জিজ্ঞেস করছেন কেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলো। পাশাপাশি ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে আইন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে।
জানা গেছে, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করছিলেন চেয়ারম্যানের ভাই মো. পারভেজসহ কয়েকজন। এই খবরে উপজেলা প্রশাসন শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে ওই বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযুক্ত পারভেজকে আটক ও অর্থদণ্ড প্রদান করে। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রশাসনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ইউপি চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা যায়, “আপনি কেন মোবাইল কোর্টে এসেছেন? কার কাছে জিজ্ঞেস করে আসছেন।”
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদুর রহমান জানান, সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করছিলেন চেয়ারম্যানের ভাই মো. পারভেজ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান অভিযান চালিয়ে তাকে আটক ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এরপর চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এসে এমন আচরণ করেন।
চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।





