এনসিটি ইজারা বিরোধে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু, অচল চট্টগ্রাম বন্দর

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৪ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এ কর্মসূচির কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আন্দোলনকারীরা কর্মবিরতি শুরু করলে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ‘আসমানে ফয়সালা হয়ে গেছে তারেক রহমানই আগামীর প্রধানমন্ত্রী’

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরের ৪ নম্বর গেট এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। একই সময় বন্দরের ভেতরে যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় জরুরি সভা আহ্বান করে প্রায় ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিককে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা ওই সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।

আরও পড়ুন: কর্মবিরতির পর লাগাতার ধর্মঘটের ডাক, চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে কী হচ্ছে?

এর আগে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। এনসিটি ইজারা বন্ধের পাশাপাশি পরিষদের পক্ষ থেকে বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের অপসারণ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শ্রমিক নেতাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং প্রশাসনের পরিচয়ে দুই শ্রমিক নেতাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, এর আগে ধাপে ধাপে কর্মসূচি পালন করা হলেও নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।