বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলায় রায়
সিলেটের বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সংশ্লিষ্ট আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের একজন শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক।
আরও পড়ুন: সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের ৫ দিনের রিমান্ড
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদের কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগও করা হয়।
ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে তদন্তে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততা শনাক্ত হয়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলাটিও একই বিচারিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাবের পৃথক অভিযানে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া গেছে।
পরে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।
আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।





