লক্ষ্মীপুরে দুর্বৃত্তের আগুনে দগ্ধ মৎস্য খামারির মৃত্যু

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর লিটন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এর আগে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিতু এগ্রো মৎস্য খামারে অগ্নিকাণ্ডে তিনি দগ্ধ হন। পরদিন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: নকলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষকের মৃত্যু

নিহত আব্বাস উদ্দিন চররমনী মোহন এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে ও জিতু এগ্রো মৎস্য খামারের মালিক। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সদস্য ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার বড় ছেলে এলাহি প্রিন্স।

প্রিন্স জানান, তার মা ও বাবা খামারেই থাকতেন। তার মা সুলতানা রাজিয়া লাকি লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি। ভোটের আগে রাতে দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে খামারের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘর পুড়ে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত বের হয়ে যেতে পারলেও আব্বাস পারেননি। এতে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে দগ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন: ভালুকায় ঋতুরাজ বসন্তে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শিমুল

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এলাহি প্রিন্স বলেন, আমার বাবা মারা যাননি, শহীদ হয়েছেন। তিনি জামায়াত করেন—এটাই অপরাধ। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমীর আবুল ফারাহ নিশান বলেন, ঘটনাটি ভোটের আগের দিন ঘটেছে। যিনি মারা গেছেন তিনি প্রিন্সের বাবা। কয়েক মাস ধরে প্রিন্সও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দাঁড়িপাল্লা সমর্থনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে ভোট করেছেন। তার বাবাও আমাদের জন্য কাজ করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।