দক্ষিণ পাশে সরকারি জায়গা ছেড়ে ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
মসজিদের প্রবেশপথ বন্ধ করে ভূমি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের অভিযোগ
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জোহালী গ্রামে চামরুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নবনির্মিত ভবন ঘিরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, মসজিদের প্রবেশপথ বন্ধ করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষিণ পাশে একজন ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে সরকারি জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোহালী গ্রামের চামরুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন ও বাউন্ডারি ওয়ালের নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্রামানিক ট্রেডার্স। নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড এবং উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী।
আরও পড়ুন: শনিবার কুলাউড়া ও জুড়ীতে বিদ্যুৎ থাকবে না সারাদিন
নির্মাণাধীন ভবনের উত্তর পাশে অবস্থিত চামরুল ইউনিয়ন জামে মসজিদ। ভবন নির্মাণের সময় উত্তর পাশে প্রায় ৪ ফুট জায়গা রেখে ভবন নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেই জায়গার মধ্যেই বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে মসজিদের দক্ষিণ পাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা।
মসজিদ কমিটির দাবি, তারা একাধিকবার ইউএনও ও এসিল্যান্ডের কাছে রাস্তা রাখার আবেদন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সরকারি জায়গা এক ইঞ্চিও ছাড়া যাবে না।” অথচ একই প্রকল্পের দক্ষিণ পাশে প্রশাসনের নির্দেশেই প্রায় ৬ ফুট সরকারি জায়গা ফাঁকা রেখে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে, যা স্থানীয়দের ভাষ্যমতে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় এসপির নাম ভাঙিয়ে আইসির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সরকারি জায়গা ছাড়ার কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে দক্ষিণ পাশে কীভাবে ৬ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখা হচ্ছে? এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণ পাশে কোনো বাড়িঘর বা চলাচলের প্রয়োজন না থাকলেও সেখানে সরকারি জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর পাশ দিয়েই পেছনের এলাকায় যাওয়ার রাস্তা রয়েছে এবং মসজিদের প্রবেশপথও সেখানেই।
এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাউল করিমের কাছে অভিযোগ জানানো হলে তিনি এসিল্যান্ডকে উত্তর পাশে মসজিদের প্রবেশপথ রেখে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ পাশে মাত্র ১ ফুট জায়গা ছেড়ে বাউন্ডারি নির্মাণের কথাও বলা হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নির্দেশনাও মানা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও দায়িত্বশীলরা দক্ষিণ পাশে আগের মতোই ৬ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখছেন এবং উত্তর পাশে মসজিদের রাস্তা বন্ধ করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “মসজিদের কোনো রাস্তা বন্ধ করা হচ্ছে না এবং দক্ষিণ পাশে কাউকে সুবিধা দিতে সরকারি জায়গাও ছাড়া হয়নি।” তবে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য, বহু বছর ধরে ব্যবহৃত প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেলে মুসল্লিদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে জুমা ও ঈদের নামাজে বিপুল মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের দাবি, দক্ষিণ পাশে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সরকারি জায়গা ফাঁকা না রেখে উত্তর পাশে মসজিদের প্রবেশপথ সংরক্ষণ করতে হবে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
মসজিদ কমিটির সদস্য, মুসল্লি ও এলাকাবাসী আশা করছেন, জেলা প্রশাসকসহ সরকারের উচ্চ মহল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং মসজিদের প্রবেশপথ সংরক্ষণ করে রাস্তা উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেবেন।





