পটুয়াখালীর বাউফলে হত্যাকাণ্ড: রতনসহ ৬ জন গ্রেফতার, অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন

Sanchoy Biswas
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ন, ০৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে পারিবারিক ও সামাজিক কলহের জেরে চাঞ্চল্যকর রবিন চন্দ্র হাওলাদার (রবিন্দ্র) হত্যার মূল আসামি রতন চন্দ্র বেপারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজে বলা হয়, কালাইয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় হাওলাদার ও বেপারী বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মন্দিরের হিসাব-নিকাশ, স্থানীয় সালিশ-দরবারে ভিকটিম রবিন চন্দ্র হাওলাদারের নেতৃত্ব এবং জমি সংক্রান্ত মামলায় প্রতিপক্ষকে সহযোগিতা করার বিষয়গুলো নিয়ে বেপারী বংশের লোকজন তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এছাড়া একটি বিয়ের ঘটকালি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ বিরোধের সূত্রপাত হয় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাইপ কেনার টাকাকে কেন্দ্র করে। বাড়ির প্রতি ঘর থেকে ১,০০০ টাকা করে ধার্য করা হলেও প্রধান আসামি রতন চন্দ্র বেপারীর পরিবার তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। গত ০৩ জুন সকাল সাড়ে ০৭ টায় রবিন চন্দ্র হাওলাদার মন্দিরের পাশে রতন চন্দ্র বেপারীর কাছে পাইপ কেনার টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রতন লোহার রড দিয়ে রবিন চন্দ্রের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরাও আহত হন। পরে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে ইয়াবাসহ ফের গ্রেপ্তার ভেলকা শাহিন

হত্যাকাণ্ডের পর ভিকটিমের ছেলে হৃদয় হাওলাদারের অভিযোগে বাউফল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১২) দায়ের করা হয়। জেলা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার দিনই বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মূল আসামি রতন চন্দ্র বেপারী রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন: ১. রতন চন্দ্র বেপারী (৩২) — প্রধান আসামি, ২. প্রদীপ চন্দ্র বেপারা (২৫), ৩. আনন্দ চন্দ্র বেপারী (৬০), ৪. সুজন চন্দ্র বেপারী (২৬), ৫. সুশান্ত চন্দ্র বেপারী (৬৩), ৬. কুসুম রানী (৫৫)। হত্যার কাজে ব্যবহৃত লোহার হাতুড়ি, রড, পাইপ, শাবল, গাছের ডাল এবং লাঠিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্যামনগরে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই

এদিকে, রবিন চন্দ্রের মৃত্যুর পর বেপারী গোষ্ঠীর লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় নিহতের বিচার চেয়ে বাজারে মানববন্ধনের পর কে বা কারা আসামিদের খালি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের ধারণা, এই আগুন দেওয়ার ঘটনার সাথে পরিকল্পিত মানববন্ধন ও মিছিলের যোগসূত্র থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ঘটনার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল ঘটনাস্থল ও পুড়ে যাওয়া বাড়ি পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকায় একটি অপরাধ সভা করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রেস রিলিজে আরও জানানো হয়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলের পাশেই একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।