ফেনীতে আকস্মিক গ্যাস সংকট, রান্না বন্ধ; অচল সিএনজি পাম্প, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

Sanchoy Biswas
সুরঞ্জিত নাগ, ফেনী
প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৪ পূর্বাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফেনী শহর ও আশপাশের এলাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। রোববার (২ আগস্ট) বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পর একপর্যায়ে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রান্নাবান্না, হোটেল ব্যবসা এবং পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালেও অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। চুলায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের অবদান স্বীকৃতির দাবি, ন্যায্য মজুরির আহ্বান

ফেনী শহরের ট্রাঙ্ক রোড এলাকার নবী হোটেলের পরিচালক মেজবাহ কামাল জানান, গ্যাস না থাকায় নতুন করে রান্না করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রস্তুত খাবার বিক্রি শেষ হয়ে যায় এবং অনেক ক্রেতাকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলেও। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে না পেরে খালি হাতে ফিরে যান এবং গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে, অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অথবা হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান।

আরও পড়ুন: উলিপুরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি ও মারধরের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি

সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ধূমসাদ্দা এলাকার সিএনজি চালক নুর মোহাম্মদ বলেন, দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। একই পরিস্থিতির কারণে অনেক চালক তাঁদের গাড়ি বন্ধ রেখেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। ফেনী শহরের মাস্টারপাড়া, সহদেবপুর, পেট্রোবাংলা, তুলাবাড়িয়া, চেওরিয়া, কালিপাল, ধর্মপুর, আমিনবাজার, বরইয়া, মাথিয়ারা, মোল্লাঘাটা, বারাহীগুনীসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা রয়েছে।

তাঁদের দাবি, গত দুই মাসে একাধিকবার পূর্বঘোষণা দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই কয়েক দফা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আগে থেকে জানানো হলে অন্তত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের ব্যবস্থাপক কিরণ চন্দ্র রায় বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জাহিদ রেজা জানান, রাজধানীতে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য কয়েকটি জেলায় সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।