ন্যাম ফ্ল্যাটে বহিষ্কৃত জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়মের মরদেহ থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী
পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরিয়মের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের জন্য পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। ফরেনসিক দলের সদস্যরা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের পর মরদেহ উদ্ধারে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, কখন মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণও এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
আরও পড়ুন: স্বৈরাচারী শক্তি আবারও ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে: প্রধানমন্ত্রী
এর আগে রোববারই রাজধানীর পল্লবী থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিননামা ঢাকার বিচারিক আদালতে জমা দেন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে জামিননামাটি দাখিল করেন। মামলাটি তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের করা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হয়। পরে তিনি ভিডিওতে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন হিসেবে পরিচয় দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই ঘটনার পর ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা জানতে পুলিশ ও ফরেনসিক দল কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





