সিজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ১ লাখ টাকা, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ভারতে পালাল চোরাকারবারিরা

নাগেশ্বরী সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি ও ১ কেজি সন্দেহজনক আইস উদ্ধার

Shahrier Islam Pallab
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৪ অপরাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি এবং এক কেজি সন্দেহজনক ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করেছে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি। শনিবার দিবাগত রাতে নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা বিওপির আওতাধীন পূর্ব রামখানা আশকোন নগর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

১৫ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্তের দিকে আসা কয়েকজন চোরাকারবারি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে ভারতের সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা আটক ২

পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি এবং এক কেজি সন্দেহজনক ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করেন।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সন্দেহজনক ক্রিস্টাল মেথ আইসের আনুমানিক সিজার মূল্য ৫ কোটি ১ লাখ ২০০ টাকা।

আরও পড়ুন: দারোগা নজরুলের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ-বগুড়ায় ১৫ বছর

উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নাগেশ্বরী থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। অপরদিকে, উদ্ধার করা এক কেজি পদার্থটি প্রকৃতপক্ষে ক্রিস্টাল মেথ আইস কি না, তা নিশ্চিত করতে নমুনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পদার্থটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

১৫ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও আরও জোরদার করা হচ্ছে।