২৫০ শয্যার হাসপাতালে সেবা পাচ্ছেন হাজারো রোগী: অ্যাডভোকেট নুরুল এমপি

Shahrier Islam Pallab
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৭ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রাকৃতিক সম্পদ, সৌন্দর্যে ভরপুর দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এলাকার হাওর অধ্যুষিত ভাটি অঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালটি জেলার দুর্গম ৬ উপজেলাসহ ১২ উপজেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র  ভরসাস্থল, সুনামগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক, ওষুধ ও জনবল সংকট থাকলেও এই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন প্রায় ১ হাজার রোগী।

আমি এই সভায় এসে জানতে পারলাম, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রয়োজনীয় জনবল, ঔষধ সংকটসহ নানা সমস্যায়, হাসপাতালটিতে কার্যক্রম চলছে ১০০ শয্যার। তবে এই হাসপাতালে ঔষধসহ অন্যান্য উপকরণ ২৫০ শয্যার জন্য বরাদ্দ থাকলেও এখানে সেবা পাচ্ছেন, প্রায় এক হাজার রোগী।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা, যুবককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড

রবিবার দুপুরে হাসপাতালের মিনি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে, এমনটিই বললেন, সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা) স্থানীয় সংসদ ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল।

এ সময় তিনি বলেন, হাসপাতালের শয্যা ২৫০টি হলেও কার্যত সেবা দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার রোগীকে। অথচ বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ২৫০ জন রোগীর ঔষধ।

আরও পড়ুন: উলিপুর সীমান্ত বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে বিএসএফের গুলি

সভায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহামদ মিনহাজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালালুদ্দিন মোর্শেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় হাসপাতালটিতে, চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধ সংকট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন বক্তারা।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ তার বক্তব্যে বলেন, হাসপাতালে জনবলের জনবল সংকট রয়েছে। শিশু বিভাগে কনসালটেন্ট মাত্র ২জন, অথচ ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫০। এর সঙ্গে আউটডোরের রোগীও দেখতে হয়, ফলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। মেডিসিন বিভাগে কনসালটেন্ট রয়েছেন, ৩ জন, তাঁদের আড়াই শ থেকে  ৩০০ রোগী দেখতে হয়। আউটডোরে একজন চিকিৎসক ২ শ এর বেশি রোগী দেখেন।

জনবলের পাশাপাশি সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টকেও বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য হলো, হাসপাতাল সুষ্ঠুভাবে চালাতে অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ রোগীর ওষুধের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ২৫০ জো রোগীর ঔষধ। অথচ প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ জনকে, কখনো বা ৮০০ থেকে ৯০০ জনকে ওষুধ দিতে হচ্ছে। এতে স্টোরের ওপর সরাসরি চাপ পড়ছে। এভাবে চললে এক মাসের ওষুধ এক সপ্তাহেই শেষ হয়ে যাবে। তাই শুরু থেকেই কম পরিমাণে ওষুধ দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, হাওর অধ্যুষিত ভাটি অঞ্চলের ১২  উপজেলার প্রায়, ২৮ লাখ  মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র জেলা সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটি। তাই আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, হাসপাতালের এই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তথ্যের ভিত্তিতে দালালদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও হাসপাতালে কেউ সহিংস আচরণ করলে অথবা কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করলে, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে পুলিশের সহায়তা নেয়ার জন্যও বলেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সংসদ সদস্যের মাধ্যমে যেসব বিষয় আনা সম্ভব, তার একটি তালিকা করে, তা সংসদ সদস্যকে দেয়া হলে ভালো হয়। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং হাসপাতালের জন্ম-মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে তাঁর পক্ষে যতটুকু সম্ভব, তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। এজন্য কী করণীয়, তা তাঁকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, অতীতে অনেক অভিযোগ শুনেছেন, কিন্তু সভায় এসে জেনেছেন হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও কার্যক্রম চলছে ১০০ শয্যার। ওষুধসহ অন্যান্য উপকরণ ২৫০ শয্যার জন্য বরাদ্দ থাকলেও রোগী সেবা পাচ্ছেন প্রায় এক হাজার।