বান্ধবীকে নিয়ে সন্দেহ, ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তাজমিনের মা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মেয়ের এক বান্ধবীকে নিয়ে মায়ের আগের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে। মেয়ের ওই বান্ধবীকে ভালো মনে না করায় প্রায় ছয় মাস তাকে স্কুলে যেতে দেননি বলে জানিয়েছেন তাজমিনের মা। তবে এই বান্ধবীর সঙ্গে তাজমিনের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ১৯ ঝুট গোডাউনে আগুন, ছড়াল দুই ভবন ও কলোনিতে

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগের দিন বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মেয়ের সঙ্গে মায়ের সর্বশেষ কথা হয়। ওই সময়ও তিনি তাজমিনের কাছে তার বান্ধবীর নাম ও বাসার ঠিকানা জানতে চান। মেয়েকে বাসায় ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোর বান্ধবীর নাম বল, বাসার ঠিকানা বল, বাসায় গিয়ে নিয়ে আসব।’

এরপর তাজমিনের সঙ্গে কী ঘটেছিল, কীভাবে সে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় পৌঁছেছিল এবং তার সঙ্গে কারা ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকার অনেক জুলাইযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করেনি-প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

তাজমিনের মা জানান, মেয়ের এক বান্ধবীকে নিয়ে আগে থেকেই তার সন্দেহ ছিল। এ কারণে প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়ের চলাফেরার ওপর নজর রাখার পাশাপাশি নিয়মিত তার খোঁজখবরও নিতেন।

তবে মায়ের এই উদ্বেগের সঙ্গে তাজমিনের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার আগে তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিল, কীভাবে সে জগতপুর এলাকায় পৌঁছেছিল এবং মৃত্যুর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।