মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৮

Shahrier Islam Pallab
মোহাম্মদ আলী, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৪ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মানিকগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় চার ভাইসহ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  একই মামলায় আরও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে  জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: উলিপুরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ ও জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ প্রদান

এছাড়া আসামি শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অপর আসামি মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমান তদন্ত শেষে ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ, আপিল করবে আসামিপক্ষ

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।