ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগ

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৪ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাপ দিচ্ছেন—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন। তাঁর দাবি, কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওয়াশিংটন। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ তিনি দেননি।

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কার্লসন এসব কথা বলেন। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বত। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই এলাকায় তেহরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আবারও শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৯ জনের

কার্লসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মার্কিন অস্ত্র দিয়ে পর্বতের গ্রানাইট ভেদ করে ভূগর্ভস্থ টানেলে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সেখানে পারমাণবিক কার্যক্রম চলছে বলে ধারণা করা হয়। এ কারণে নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনকে পারমাণবিক হামলার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে কার্লসন বলেন, নেতানিয়াহু প্রতিদিন এ বিষয়ে ট্রাম্পকে ফোন করছেন। তবে এই যোগাযোগ বা কথিত চাপের বিষয়ে কোনো নথি কিংবা স্বাধীন সূত্রের সমর্থন তিনি প্রকাশ করেননি।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের রাস্তায় হাজারো মানুষ, ইহুদি-আরব সরকার গঠনের দাবি

কার্লসন আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান ও ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থের সঙ্গে ইরানে সামরিক অভিযানের বিষয়টি জড়িত। তাঁর ভাষ্য, ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুর সরকার গঠন কঠিন হতে পারে এবং ক্ষমতা হারালে তাঁকে তদন্ত ও সম্ভাব্য কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। এসব বক্তব্যও কার্লসনের নিজস্ব বিশ্লেষণ ও দাবি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের নিয়েও কার্লসনের অভিযোগ

কার্লসন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দোহায় খসড়া করা ইরান শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন বলেও দাবি করেন কার্লসন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষেও তিনি কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেননি।

কার্লসনের আরও দাবি, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন চাইতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গোপনে আবুধাবি সফর করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে আমিরাত সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি বলে দাবি তাঁর।

ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেছেন কার্লসন। তাঁর ভাষ্য, পিকঅ্যাক্স পর্বতে ভূপৃষ্ঠে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে পারস্য উপসাগর দূষিত হতে পারে। এতে প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

কার্লসন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে তা অন্য দেশগুলোর জন্যও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তাঁর দাবি, রাশিয়া অন্তত দুটি সরকারকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পারমাণবিক হামলা চালালে মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের স্বাধীনতা পাবে। তবে এই কথিত বার্তার বিষয়ে স্বাধীন কোনো প্রমাণ তিনি দেননি।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম ব্যবহার সহজ করতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন প্রশাসন নীরবে তাদের পারমাণবিক নীতি সংশোধন করেছে বলেও অভিযোগ করেন কার্লসন। অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় ৮৫০টি সুপারট্যাঙ্কারের মধ্যে ১১টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপে সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপে আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং আবার সামরিক অভিযানে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা চালানোর জন্য নেতানিয়াহু চাপ দেন। পরে ট্রাম্প ওই ফোনালাপকে ‘খুব ভালো আলোচনা’ বলে বর্ণনা করেন।

এর আগে ট্রাম্প পিকঅ্যাক্স পর্বত নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘আমরা ১০ মিনিটের মধ্যে তা করতে পারি। আমাদের সেই পরিকল্পনা আছে। আপনারা পিকঅ্যাক্স পর্বত দেখতে পারেন। আমাদের সেটির ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা খুব দ্রুতই তা করতে পারি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার পথ খোলা রাখার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁর আশা, অপর পক্ষ অন্য পথের পরিবর্তে কূটনীতিকে বেছে নেওয়ার মতো বিবেচনা দেখাবে।

কার্লসনের দাবি, ট্রাম্প এখনও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কথা শুনছেন। তাঁরা মনে করেন, ইরানের সঙ্গে এখনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তাই পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি না নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন কার্লসন।

তবে ইরানে পারমাণবিক হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। কার্লসনের বক্তব্যের বড় অংশই তাঁর নিজস্ব দাবি, বিশ্লেষণ ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ওপর নির্ভরশীল।