উলিপুরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

Shahrier Islam Pallab
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩০ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (আরআরএমইপি) প্রকল্পে নারী কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গুনাইগাছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কারী হাবিবুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আরআরএমইপি প্রকল্পের আওতায় নারী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে কথা বলতে সেখানে যান উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কারী হাবিবুর রহমান, শাহাজান সিরাজসহ কয়েকজনের সঙ্গে নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কারী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর ওপর চড়াও হন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ প্রদান

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানান, নারী কর্মী নিয়োগ নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা একপর্যায়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।

ভুক্তভোগী উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রকল্পের কর্মী বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছিল। কিন্তু কারী হাবিবুর রহমান তাঁর পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি ও তাঁর অনুসারীরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকে তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির হলেন এ আর হাফিজ উল্লাহ

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কারী হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। এ সময় শুধু বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে, কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়নি।

এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি আশা করছেন। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।