ধোপাজান নদী বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে সুরমা লঞ্চঘাট বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদার
মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ পাথর মিশ্রিত বালু মহাল সুনামগঞ্জ সদর-বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন সর্ব বৃহত্তর ধোপাজান চলতি নদী বন্ধ থাকায় সুরমা বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদার কর্তৃক সরকার বাহাদুরকে দেওয়া ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা রাজস্ব। এতে করে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদার।
সুনামগঞ্জ সদর-বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সহ বেশ কয়েকটি উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ি মানববেতর জীবনযাপন করছেন।
আরও পড়ুন: ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়: ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন
শনিবার (৭ নভেম্বর) ধোপাজান চলতি নদীর দুই তীরে বসবাসরত শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের সাথে সরেজমিন আলাপকালে জানা যায়, সুরমা বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাটের ইজারাদার দিনের পর দিন,মাসের পর মাস ধোপাজান চলতি নদী কবে উন্মুক্ত হবে, সেই দিনের অপেক্ষা করতে করতে প্রায় ইজারার মেয়াদ শেষের পথে। ইজারাদারের নিয়োগকৃত সুরমা লঞ্চঘাটে দায়িত্বরত স্টাফদের প্রতিদিনের খাবার এবং মাসিক বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে যদি আর কিছুদিন চলে তাহলে পথে বসতে হবে নিয়োগকৃত ইজারাদারকে।
জিনারপুর এলাকার বিসমিল্লাহ নৌ পরিবহনের সুকানী মো আকবর আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধোপাজান চলতি নদী বন্ধ থাকায় আমরা নৌ শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছি। নদী উন্মুক্ত না হলে কিস্তি এবং সুদের টাকার জন্য পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় চলে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে দিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগ, মিজান বললেন ‘অভাবের তাড়নায় করেছি’
মায়ের দোয়া নৌ-পরিবহনের সুকানী হোসেন আলী বলেন, ১শত মেঃ টনি দেশীয় ছোট নৌকা ভাড়ায় চালাই। নদী খোলার আশায় আশায় এখনও অপেক্ষা করছি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে,ঋণের টাকার চাপে এলাকা ছাড়ার সময় হয়ে গেছে। মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল সহ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সৈয়দপুর গ্রামের বালু পাথর ব্যবসায়ি মমিন মিয়া বলেন, ৫ হাজার ফুটি আমার দুটি স্টীল বডি নৌকা। নদী খোলার আশায় আশায় আজ প্রায় ৫/৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। আমার দুটি নৌকার সুকানী এখন পর্যন্ত আমার কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা খরজা নিয়েছে। কবে যে নদী খোলবে আর আমার পাওনা টাকা ফেরত পাবো তা নিয়ে আমি নিজেও দুঃচিন্তায় আছি। এভাবে যদি আর কিছুদিন নদী বন্ধ থাকে তাহলে আমরা এই ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
সুরমা লঞ্চঘাট বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদার বলেন,ব্যবসায় কমপিটিশন থাকার কারণে প্রতিবছরেই ইজারা মূল দ্বিগুণ হচ্ছে। কিন্তু এবছর উচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলা জটিলতার কারণে ধোপাজান নদী দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছি। প্রতি মাসেই ৭/৮ জন স্টাফের মাসিক বেতন পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। এতে করে কোটি কোটি টাকা আমাদের লোকসান হবে। ধোপাজান চলতি নদীতে কর্মহীন প্রায় দুই লক্ষ শ্রমিক-ব্যবসায়ি এবং ইজারাদারের কথা চিন্তা করে
বন্ধ হওয়া নদী দ্রুত খোলার জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের আশুদৃষ্টি কামনা করছি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা সখিনা বেগম বলেন, এবছর সুরমা লঞ্চঘাট বিআইডব্লিউটিএ
নৌকা ঘাটের সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছেন মো রাহাত আহমেদ। তিনি ইজারা গ্রহনের পর থেকেই উচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলা জটিলতার কারণেই নদী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইজারাদাররা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি দুটি উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিক-ব্যবসায়ি কর্মহীন জীবন যাপন করছেন।
সুনামগঞ্জ সদর সুরমা লঞ্চঘাট বিআইডব্লিউটিএ নৌকাঘাট ইজারাদাররা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন জানতে চাইলে এ
বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল বলেন,মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হলে আরও যেসব নৌকাঘাট আছে তা ইজারা দেওয়া হবে ।আদালতে করা মামলা প্রত্যাহার হলেই নদী উন্মুক্ত হবে।





