দুই হাজার কিলোমিটারের সীমা তুলে নিল ইরান, আরও দূরপাল্লার মিসাইল তৈরির পরিকল্পনা

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৩ অপরাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা (রেঞ্জ) দুই হাজার কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি থেকে সরে এসেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর ফলে দেশটি এখন থেকে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিতে পারে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি এ তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত, আহত ১৫

এপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে আইআরজিসির এই ঘোষণা এসেছে। কয়েক দিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, দেশটির ওপর নতুন করে কোনো হামলা হলে এবার পাল্টা জবাব ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকবে না।

রাজধানী তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। ইরান শুধু কথায় নয়, বাস্তবেও এর প্রমাণ দেবে।

আরও পড়ুন: ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

তবে ইরানের কাছে বর্তমানে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না, কিংবা অতীতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

বর্তমানে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় ইউরোপের গ্রিস ও বলকান অঞ্চলের কিছু অংশ, পুরো আরব উপদ্বীপ এবং মিসরের অধিকাংশ এলাকা রয়েছে। এই পাল্লা আরও বাড়ানো হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আরও বেশি দেশ চলে আসতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। ইরান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। দুই হাজার কিলোমিটারের ঘোষিত সীমার বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় তখন প্রশ্ন ওঠে, ইরান আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে কি না। তবে দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচিকে কাজে লাগিয়ে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরি করতে পারে ইরান। এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হলে দেশটির আঘাত হানার সক্ষমতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।