প্লটের নামে প্রতারণা
বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজসহ ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা
প্লট বরাদ্দের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল প্রেডিকশনে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর ১০ বিজয়ী ঘোষণা
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে ওই অর্থ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়ার পর বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত ব্যক্তিরা হলেন বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী এবং পরিচালক মো. মোমেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ডিআইজি ও সিলেটের কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল
এ ছাড়া তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড, বেস্টওয়ে ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, গ্রেট ওয়াল ল্যান্ড প্রোপার্টি লিমিটেড, বেস্টওয়ে পাওয়ারটেক লিমিটেড, বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন লিমিটেড, বেস্টওয়ে কো-অপারেটিভ কমার্শিয়াল ক্রেডিট লিমিটেড, নভেল্টা বেস্টওয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেস্টওয়ে মোটরস লিমিটেড, বেস্টওয়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনকিউবেশন লিমিটেড, বেস্টওয়ে ন্যাশনওয়াইড হাউজিং লিমিটেড, এনআরবি টাউন লিমিটেড, বেস্টওয়ে এগ্রো লিমিটেড, বেস্টওয়ে টাইমস সিটি লিমিটেড, বেস্টওয়ে জেমি ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড, গ্লোবাল কানেক্ট বিডি লিমিটেড, হেরিটেজ হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এবং বেস্টওয়ে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন লিমিটেড।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে আকর্ষণীয় প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিস্তিতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা গ্রহণ করা হলেও তাদের প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জমা দেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।
সিআইডির দাবি, গ্রাহকদের প্লট বরাদ্দের নিশ্চয়তা হিসেবে সাব-কবলা দলিল দেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিশ্রুত প্লট হস্তান্তর করা হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্ট ৮২টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা ৭২ পয়সা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা ৭৯ পয়সা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া তদন্তে ২ হাজার ৭১৩টি জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্যও পাওয়া গেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার অন্য গ্রাহকদের শনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ নিরূপণের কাজও চলছে।
সিআইডি আবাসন প্রকল্পে প্লট বা ফ্ল্যাট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন, ভূমির কাগজপত্র এবং অর্থ লেনদেনের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার পাশাপাশি প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন বা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।





