রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে প্রতিপক্ষের জালে বার্সেলোনার ৭ গোল

Sadek Ali
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৪ বছর পর লা লিগায় ফিরে আসা রেসিং স্যান্টান্ডারের বিপক্ষে গোলের উৎসব করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে প্রতিপক্ষকে ৭-২ গোলে হারিয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার হাতে। একের পর এক আক্রমণে রেসিংয়ের রক্ষণকে চাপে রাখে স্বাগতিকরা। অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোয়াও ক্যান্সেলোর জোরালো শট ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে যায়।

আরও পড়ুন: ২০২৮ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল মিউনিখে, ২০২৯ বার্সেলোনায়

এরপরও আক্রমণের ধার কমেনি বার্সার। ১৯ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি করিম আদেয়েমি। এর কিছুক্ষণ পর ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন রাফিনিয়া। পেনাল্টি থেকে গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

তবে ৩০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় রেসিং। ডি-বক্সের কোনাকুনি জায়গা থেকে মাগুয়েত গেয়ির শট জালে জড়ায়।

আরও পড়ুন: আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি

রেসিংয়ের সেই স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ছয় মিনিট পর ক্যান্সেলোর জোরালো শট রেসিংয়ের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। এরপর ৪২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। দানি ওলমোর পাস পেয়ে ফাঁকা জায়গা থেকে বল জালে পাঠান তিনি।

বিরতির ঠিক আগে আবারও পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। করিম আদেয়েমি ফাউলের শিকার হলে স্পটকিকের সুযোগ আসে। তবে রেসিং গোলরক্ষক ভয়চেক সেজনি ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ইয়ামালের আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

৬৫ মিনিটে রেসিংয়ের দ্বিতীয় গোলটি আসে বার্সার গোলরক্ষকের ভুল থেকে। প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয়ে পিছলে পড়েন সেজনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে টোকায় বল জালে পাঠান রেসিংয়ের ইয়াসির জাবিরি। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-২।

এর কিছুক্ষণ পর আবারও পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। এবারও ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন আদেয়েমি। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন রাফিনিয়া। সফলভাবে পেনাল্টি নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। চলতি লা লিগায় এটি রাফিনিয়ার নবম এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১তম গোল।

৭২ মিনিটে ইয়ামাল গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে।

রাফিনিয়া মাঠ ছাড়ার ১০ মিনিট পর ৭৯ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ইয়ামালের থ্রু পাস পেয়ে বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান আর্সেনালের সাবেক এই ফরোয়ার্ড। লা লিগায় বার্সার হয়ে এটিই তার প্রথম গোল। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেইনুর্দের বিপক্ষে কাতালান ক্লাবটির হয়ে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি গোল পায় বার্সেলোনা। কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়া আদেয়েমির কাটব্যাক থেকে ৮৯ মিনিটে বল জালে পাঠান লামিনে ইয়ামাল। লা লিগায় টানা চার ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি চলতি মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে এটি তার অষ্টম গোল।

এই জয়ে লা লিগায় ছয় ম্যাচের সবকটিতে জয় পেল বার্সেলোনা। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে তারা। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে রেসিং স্যান্টান্ডারের অবস্থান দশম।