শাহজালাল বিমানবন্দরে দর্শনার্থীকে নিয়ে ছড়ানো ভিডিওকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলল আনসার
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় এক দর্শনার্থীকে টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়ার অভিযোগকে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন: কালো ধোঁয়ার যানবাহনে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের ক্যানোপি-০২ এলাকায় একজন যাত্রীর স্বজন আগমনী গেটের পার্শ্ববর্তী নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় সাধারণ যাত্রী বা স্বজনদের অবস্থান নিষিদ্ধ থাকায় কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে সেখান থেকে সরে যেতে একাধিকবার অনুরোধ ও নির্দেশনা দেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন এবং আগমনী গেটের অভ্যন্তরে বারবার উঁকিঝুঁকি দিতে থাকেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র জানাল পুলিশ, জানুয়ারি-জুলাইয়ে উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯
একপর্যায়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে পুনরায় সরে যেতে বললে তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, অশোভন মন্তব্য, গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে দাবি করেছে আনসার।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি দায়িত্ব পালনরত অ্যাভসেকের (AVSEC) একজন কর্পোরালের নজরে এলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। এ সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে কর্পোরালের বাকবিতণ্ডা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে অ্যাভসেকের ওই কর্পোরাল কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অ্যাভসেক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আনসার সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
আনসার বাহিনী জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধি এবং নির্ধারিত প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান করলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, এ ঘটনায় তাদের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাভসেক কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ শিরোনামে একটি ভিডিও ও ক্যাপশন ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার অনুসন্ধান করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
আনসারের দাবি, সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা একপাক্ষিক ক্যাপশনের মাধ্যমে ঘটনাটি উপস্থাপন করা হলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন ভিডিও বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাহিনী।





