আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, নথি চেয়েছে দুদক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে চার ধরনের নথিপত্র চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো দুদকের চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র জানাল পুলিশ, জানুয়ারি-জুলাইয়ে উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯

দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে চাহিদাকৃত নথিপত্র আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পুলিশের ৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকমূলে বদলি সংক্রান্ত সত্যায়িত ছায়ালিপি, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব প্রদান, তা বাতিল ও নতুন পদায়ন সংক্রান্ত নথিপত্র এবং ঢাকা, বগুড়া, বরিশাল, পাবনা, ধামরাই ও নরসিংদী জেলায় কর্মরত নির্দিষ্ট সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথি চাওয়া হয়েছে।

এর আগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো. মাসুম আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ অনুসন্ধানে গতকাল বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন পদে পদায়নের আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের পাশাপাশি যুব উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডারে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে কয়েকজন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না। উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদায়ন বা পদোন্নতিতে মন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না; সচিবের মাধ্যমেই এসব পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পিএসসির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মেধাতালিকা প্রস্তুতের দায়িত্ব সচিবের। এ ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বাস্তবতা উদ্ঘাটনের স্বার্থে যেকোনো তথ্য-উপাত্ত বা নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে তিনি প্রস্তুত।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।