সারাদেশে শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান, জানালেন র‌্যাব মহাপরিচালক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৫ অপরাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সারাদেশে র‌্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় র‌্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধার উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: পুলিশের ৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বলেও জানান তিনি।

অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।

আরও পড়ুন: ভালো কাজের মূল্যায়ন করার আহ্বান ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালকের

র‌্যাব জানায়, গত সোমবার সুন্দরবনের পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে একই রাতে আরও সাতজন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেন। সব মিলিয়ে আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জলদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন।

এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান, একটি .২২ বোর রাইফেল, সাতটি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনের ৩১৮ জন জলদস্যু এ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে গেছেন।

সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনীহা এবং হয়রানির ভয়—এসব কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন বলে জানান তিনি।

তবে ৩১৮ জনের মধ্যে ৩০ জন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে যাওয়া বড় কোনো বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন র‌্যাব মহাপরিচালক।

আহসান হাবীব পলাশ জানান, সুন্দরবনে এখনো চার থেকে পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদেরও অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নেওয়া পুনর্বাসন প্যাকেজ দেখে অন্য জলদস্যুরাও উৎসাহিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আগের চেয়ে ভালো পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারীদের অহেতুক মামলা ও হয়রানির বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে একটি র‌্যাব ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন র‌্যাব মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সুন্দরবনবাসী চাইলে সেখানে র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান র‌্যাব মহাপরিচালক।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সুন্দরবনের গুরুত্ব তুলে ধরে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন সুন্দরবন।

তবে আশির দশক থেকে সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা ও বনদস্যুতার একটি কলঙ্কিত অধ্যায় শুরু হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে কিংবা বনে কাঠ, মধু ও গোলপাতা সংগ্রহকারীসহ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষ দীর্ঘদিন এসব বাহিনীর অত্যাচার, জিম্মি ও অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর এ ধরনের অন্যায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন র‌্যাব মহাপরিচালক।