শেরপুরে ৫৬ সরকারি প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক

Sadek Ali
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৬ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

​বিনা মূল্যে পাঠ্যবই, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সুবিধা থাকার পরও বগুড়ার শেরপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক অভিভাবক। বাড়তি খরচ হওয়া সত্ত্বেও সন্তানকে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাচ্ছেন তাঁরা। শ্রেণিভিত্তিক তদারকির অভাব, মানসম্মত শিক্ষার ঘাটাই, ইংরেজি শেখায় পিছিয়ে থাকা এবং উপজেলার ৫৬টি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

​উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুরের ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৬টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন পদগুলো ফাঁকা থাকায় সহকারী শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক ঘাটতির পাশাপাশি শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ২০১২ ও ২০১৮ সালে কিছু নিয়োগ হলেও পরবর্তী সময়ে এই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

আরও পড়ুন: পাটগ্রাম সীমান্তে ১ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও দুই বাইসাইকেল আটক

​অভিভাবকদের অভিযোগ, শুধু নিখরচায় পড়ালেখার সুযোগই শেষ কথা নয়; সন্তানের সার্বিক তদারকি ও শিক্ষকদের জবাবদিহিতাও জরুরি। গত ২১ জুলাই জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান শেরপুরের গাড়ীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থীকে ইংরেজি বই ঠিকমতো পড়তে না দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মানসম্মত পাঠদানের কঠোর নির্দেশ দেন। বিশেষ করে গ্রামের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতায় বড় ধরনের দুর্বলতা চোখে পড়ছে।

​এই সুযোগে উপজেলায় দ্রুত বাড়ছে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর অবকাঠামো বা প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকলেও নিয়মিত পরীক্ষা, অভিভাবকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রতি আলাদা নজরদারির কারণে অভিভাবকেরা সেদিকেই ঝুঁকছেন। শিক্ষকেরা বলছেন, সরকারি স্কুলে এক একটি শ্রেণিতে ৫০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থীকে সামলানো কঠিন হলেও বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী কম থাকায় শিক্ষকেরা প্রতিটি শিশুর দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারেন।

আরও পড়ুন: জীবননগরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

​প্রধান শিক্ষকসংকট নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন সংস্থাকে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত পদগুলো পূরণের পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়াতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

​অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত আইনি জটিলতা কেটে গেছে, দ্রুতই নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ছাড়া বেসরকারি স্কুলগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কাজ চলছে; অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো সরকারি সুবিধা বা বই দেওয়া হবে না।